দ্বীন ততকাল বিজয়ী থাকবে, যতকাল লোকেরা ইফতার করতে তাড়াতাড়ি করবে

দ্বীন ততকাল বিজয়ী থাকবে, যতকাল
লোকেরা ইফতার করতে তাড়াতাড়ি
করবে

image

রোযার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে
গেলে রোযা খোলা বা ইফতার করার
জন্য প্রত্যেক রোযাদারের অধীর
আগ্রহে অপেক্ষা করাটাই স্বাভাবিক।
আর সেই সময় যে তার রোযা পূর্ণ করতে
পারে প্রকৃতিগতভাবে সে খুশী হয়।
অতএব ইফতার করতে তাড়াতাড়ি
করাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু
তা সত্ত্বেও দয়ার নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে
সত্বর ইফতার করতে নির্দেশ দিয়েছেন
এবং জানিয়েছেন যে, তাতে
আমাদের মঙ্গল আছে। তিনি বলেন,
‘‘লোকেরা ততক্ষণ মঙ্গলে থাকবে,
যতক্ষণ তারা (সূর্য ডোবার পর নামাযের
আগে) ইফতার করতে তাড়াতাড়ি
করবে।’’[বুখারী ১৯৫৭, মুসলিম ১০৯৮নং]
যেহেতু ইয়াহুদ ও খ্রিষ্টানরা রোযা
রেখে দেরী করে ইফতার করে, তাই
তিনি আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধাচরণ
করতে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
‘‘দ্বীন ততকাল বিজয়ী থাকবে, যতকাল
লোকেরা ইফতার করতে তাড়াতাড়ি
করবে। কারণ, ইয়াহুদ ও খ্রিষ্টানরা
দেরী করে ইফতার করে।’’[আবূ দাঊদ,
হাকেম, মুস্তাদ্রাক, ইবনে হিববান,
সহীহ, সহীহুল জামেইস সাগীর,
আলবানী ৭৬৮৯নং]
খোদ মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে
ওয়াসাল্লাম)-এর আমল ছিল জলদি
ইফতার করা। আবূ আত্বিয়াহ বলেন, আমি
ও মাসরূক আয়েশা (রাঃ)এর নিকট
উপস্থিত হয়ে বললাম, ‘হে উম্মুল মুমেনীন!
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে
ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে
একজন (সময় হওয়া মাত্র) তাড়াতাড়ি
ইফতার করে ও তাড়াতাড়ি নামায
পড়ে এবং অপর একজন দেরী করে ইফতার
করে ও দেরী করে নামায পড়ে।’ তিনি
বললেন, ‘ওদের মধ্যে কে তাড়াতাড়ি
ইফতার করে ও তাড়াতাড়ি নামায
পড়ে?’ আমরা বললাম, ‘আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ
ইবনে মাসঊদ)।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর
রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে
ওয়াসাল্লাম) এ রকমই (তাড়াতাড়ি
ইফতার ও নামায আদায়) করতেন।’[মুসলিম
১০৯৯নং]
সময় হওয়ার সাথে সাথে শীঘ্র ইফতার
করা নবুঅতের একটি আদর্শ। মহানবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)
বলেন, ‘‘তিনটি কাজ নবুয়তের আদর্শের
অন্তর্ভুক্ত; জলদি ইফতার করা, দেরী
করে (শেষ সময়ে) সেহরী খাওয়া এবং
নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের উপর
রাখা।’’[ত্বাবারানী, মু’জাম,
মাজমাউয যাওয়ায়েদ ২/১০৫, সহীহুল
জামেইস সাগীর, আলবানী ৩০৩৮নং]
বলা বাহুল্য, স্থানীয়ভাবে সূর্যের
বৃত্তির সমস্ত অংশটা অদৃশ্য হয়ে (অস্ত)
গেলে রোযাদারের উচিৎ, সাথে
সাথে সেই সময় ইফতার করা। আর এ সময়
নিম্ন আকাশে অবশিষ্ট লাল আভা
থাকলেও তা দেখার নয়। যেহেতু
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে
ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘রাত যখন এদিক
(পূর্ব গগণ) থেকে আগত হবে, দিন যখন
এদিক (পশ্চিম গগণ) থেকে বিদায় নেবে
এবং সূর্য যখন অস্ত যাবে, তখন রোযাদার
ইফতার করবে।’’[বুখারী ১৯৪১, ১৯৫৪,
মুসলিম ১১০০, ১১০১, আবূ দাঊদ ২৩৫১, ২৩৫২,
তিরমিযী, দাঃ]
অতএব দেখার বিষয় হল সূর্যাস্ত; আযান
নয়। সুতরাং রোযাদার যদি সবচক্ষে
দেখে যে, সূর্য ডুবে গেছে কিন্তু
মুআযযিন এখনো আযান দেয়নি, তাহলেও
তার জন্য ইফতার করা বৈধ।[আশ্শারহুল
মুমতে’ ৬/৪৩৯]
পক্ষান্তরে পূর্বসতর্কতামূলকভাবে
মুআযযিনদের দেরী করে আযান দেওয়া
বিদআত।[মু’জামুল বিদা’ ২৬৮পৃঃ]

image

সবচেয়ে ভয়ংকর হাদিসগুলোর একটি
নিচে দেয়া হলো। মনযোগ দিয়ে পড়ুন।
.
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের
অনেকের কথা আমি জানি, যারা
কিয়ামাতের দিন তিহামা অঞ্চলের
সাদা পর্বতমালা পরিমাণ নেকি
নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু আল্লাহ
সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায়
পরিণত করে দেবেন।
.
এই কথা শুনে সাওবান (রা.) বললেন, “হে
রাসূলাল্লাহ! তাদের পরিচয় দিন,
আমরা যেন নিজেদের অজান্তে
তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই।”
.
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বললেন, তারা তোমাদেরই
ভাই, তোমাদের সাথেই থাকে।
তোমরা যেমন রাত জেগে ইবাদাত
করো, তারাও করে।
.
কিন্তু যখন একাকী হয় তখন আল্লাহর
নিষিদ্ধকৃত হারামে লিপ্ত হয়।’
.
[ইবনে মাজাহ ৪২৪৫; হাদিসটি সহিহ]
.
আমরা যারা সুযোগ পেলেই দৃষ্টির
খেয়ানত করি, লজ্জাস্থানের খেয়ানত
করি, মানুষের অধিকার নষ্ট করি ও
নির্জনে বিভিন্ন হারামে লিপ্ত হই –
এই হাদিস আমাদের জন্য
মহাসতর্কবার্তা। আল্লাহ আমাদেরকে
গোপন গোনাহ থেকে রক্ষা করুন।

image

আপনি একটা বিষয় নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন।
বারবার মনে পড়ছে। স্মৃতিচারণ করে
নিজেকে নিজে কষ্ট দিচ্ছেন। কী
লাভ এতে? এভাবে কষ্ট পেয়ে, স্ট্রেস
নিয়ে কোনো লাভ আছে? তার চেয়ে
বরং ভুলে যান। সবকিছু সহজ স্বাভাবিক
ভাবে নিন। নিজের জীবনে কিছু
আনএক্সপেক্টেড ঘটনা ঘটার পরও মুখে
সবসময় হাসি দেখে এক ভাই কনফিউজড
হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
“ভাই আপনি এখনো হাসছেন? আমারই
তো খারাপ লাগছে!”
বলেছিলাম, “হা হা ভাই! আমরা
আল্লাহর যেকোনো ফায়সালার উপর
সন্তুষ্ট!”
.
হ্যাঁ, আমাদের আল্লাহর যেকোনো
সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
তিনি কখনো আমাদের উপর অবিচার
করেন না। তিনি আমাদের জন্য যা
উত্তম তাই করেন। আল্লাহ্ সুবাহানাহু
ওয়া তা’অালা যদি আমাদের
দেখিয়ে দিতেন কিভাবে তিনি
সমস্যাগুলোর সমাধান করেন তো আমরা
কৃতজ্ঞতা সহকারে তাঁর দরবারে
সিজদায় পড়ে থাকতাম। তাই আল্লাহর
উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন। সব কষ্ট ভুলে যান।
জীবনকে সহজভাবে নিন। যেকোনো
সমস্যা ঠান্ডা মাথায় মোকাবেলা
করুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ্
আজ্জাওয়াজালের উপর ভরসা রাখুন,
কৃতজ্ঞ থাকুন আমাদের রবের প্রতি।
.
তিনি আপনাকে ঠকাবেন

kasasul quran কাসাসুল কুরআন-১-১১ (পূর্ণ সেট)

কাসাসুল কুরআন-১-১১ (পূর্ণ সেট)

image

কুরআনে বর্ণিত ঘটনাবলির অধিকাংশই
প্রাচীনকালের বিভিন্ন জাতি-
গোষ্ঠী ও তাদের প্রতি প্রেরিত
নাবি-রাসূল (সা.) সম্পর্কিত। দুঃখের
বিষয় হলো, সেই জাতি-গোষ্ঠীর
পরিচয় ও নাবি-রাসূলদের জীবন-চরিত
সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্বচ্ছ
জ্ঞান নেই। বরং উদ্ভট গল্প-
কাহিনীগুলোই লোকমুখে বেশি
প্রচলিত।
১১ খণ্ডের এ বইয়ে কুরআনে বর্ণিত
বিভিন্ন নাবি-রাসূল ও ঐতিহাসিক
জাতি-গোষ্ঠীর পরিচয়, সময়কাল,
তাদের কর্ম ও জীবনের ওপর স্বার্থক
আলোকপাত করা হয়েছে।
ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন সংশয়,
জটিলতা ও ইসরাঈলী গল্পকাহিনির
অপনোদন করা হয়েছে।
লেখক: মাওলানা হিফজুর রহমান
অনুবাদক: আবদুস সাত্তার আইনী
অনুবাদক: মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারূক
কাসেমী
অনুবাদক: আব্দুল কাইয়ুম শেখ
প্রকাশনী: মাকতাবাতুল ইসলাম
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারী, ২০০০
প্রচ্ছদ মূল্য ৳২৩০০.০০

যাকাত (পর্ব-২)

যাকাত (পর্ব-২)
যাকাত সম্পর্কে জানা জরুরী এমন
গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো বিষয়
সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হলো।
(১) নিসাব পরিমান স্বর্ণ, রূপা, ক্যাশ
টাকা পূর্ণ এক বছর না হওয়া পর্যন্ত
যাকাত দেওয়া ফরয হবেনা।

image

যেইদিন
বছর পূর্ণ হবে সেইদিন যাকাত দেওয়া
ফরয হবে। রমযান মাসে যাকাত
দিতে হবে এমন কোন কথা নেই, যার
উপর যেইদিন যাকাত ফরয হবে তখনই
যাকাত দিতে হবে। Continue reading “যাকাত (পর্ব-২)”

যাকাত (পর্ব-১)

যাকাত (পর্ব-১)
বিসমিল্লাহ। আলহা’মদুলিল্লাহ।
ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা
রাসুলিল্লাহ।
যাকাত ইসলামের তৃতীয় রুকনঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি
ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইসলামের
রুকন বা ভিত্তি পাচটি বিষয়ের উপর
প্রতিষ্ঠিত। আর তা হচ্ছে, আল্লাহকে
এক বলে বিশ্বাস করা, সালাত
কায়েম করা, যাকাত আদায় করা,
রামাযানের সাওম পালন করা এবং
হজ্জ করা।” সহীহ মুসলিমঃ ১৮। Continue reading “যাকাত (পর্ব-১)”