প্রশ্নঃ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা যাবে?

প্রশ্নঃ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা
যাবে?
.
উত্তরঃ বর্তমান বাঙালি মুসলমান
সমাজে এমন অনেকেই আছে,
– যাদের নাম মুসলমানদের নামের
মতোই – আরিফ, হাসান, ইব্রাহীম,
ফাতেমা, জামিলা, জিনাত
ইত্যাদি।
– তারা মুসলমান বাবা-মায়ের
সন্তান।
– তারা নিজেদেরকে মুসলমান বলে
দাবী করে, নাগরিকত্ব,
সার্টিফিকেট পাসপোর্টে
নিজেদের ধর্ম ইসলাম লিখে গর্ব
বোধ করে।
– ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে গরু জবাই করে
খায়।
=> কিন্তু,
– জীবনে কোনদিন পাচ ওয়াক্ত
নামায পড়েনা, পুরুষেরা শুধুমাত্র ঈদ
আর জুমাহর দিনে, আর নারীরা শবে
বরাত ও শবে ক্বদরে নামায পড়ে।
– ক্বুরানুল কারীম শেষ কবে
পড়েছিলো সেটা বলতে পারবেনা,
নিজের বাবা-মা না মরা পর্যন্ত আর
কোনদিন খুলবেও বলে মনে হয়না।
– ঈমান, ইসলাম, হালাল-হারাম কি
তা জানার ও মানার কোন ইচ্ছা বা
আগ্রহ নেই, এইগুলোর প্রয়োজন আছে
বলে মনে করেনা।
.
আমাদের দেশে এমন অনেক লোক
রয়েছে যারা হিন্দুদের ‘হোলি’
নামের উৎসব উদযাপন করেছে।
আমাদের দেশের অনেক স্কুল, কলেজ ও
বিভিন্ন পার্টিতে ২৫শে ডিসেম্বর
উপলক্ষ্যে ক্রিসমাস ট্রি, বড়দিন,
সান্টা ক্লজের শিরকি অনুষ্ঠান
আয়োজন করা হচ্ছে। ১৩-ই
ফেব্রুয়ারীতে বিভ্রান্ত তরুণ নারী
ও পুরুষেরা ‘বসন্ত বরণ’ নামে
বিজাতীয় উৎসব উদযাপ করছে।
আগামী ১৪-ই এপ্রিল “পহেলা
বৈশাখ” নামে এমন আরেকটি
“হিন্দুয়ানী অনুষ্ঠান” আমাদের
দেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
অথচ,
মুসলমানদের জন্য “পহেলা বৈশাখ”
উদযাপন করা সুস্পষ্ট হারাম,
নাজায়েজ। নিজে জানুন, অন্যকে
জানান। মুশরিকদের সংস্কৃতি থেকে
বেঁচে থাকুন, নিজের ঈমান ও
আকীদার হেফাজত করুন।
.
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আয়োজিত
হারাম কাজগুলোর কিছু উদাহরণঃ
(১) গান-বাজনার আসর বসানো।
শয়তানের সবচাইতে শক্তিশালী
একটা অস্ত্র হচ্ছে গান, যা দিয়ে সে
ঈমানদা লোকদের অন্তরে
মুনাফেকী ও পাপাচারের বীজ বপণ
করে।
(২) বিভিন্ন প্রকার মাদক ও
নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করা।
হাদীস অনুযায়ী মদখোর ব্যক্তির
নামায ৪০ দিন পর্যন্ত কবুল হয়না,
নেশা করতে অভ্যস্ত ব্যক্তি
জাহান্নামে যাবে।
(৩) জুয়া বা লটারীর আয়োজন করা।
ক্বুরানুল কারীমের সুরা মায়িদাতে
জুয়াকে শয়তানের কাজ বলা হয়েছে।
(৪) নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশার
সুযোগ করে দেওয়া। ফ্রী-মিক্সিং
নারী-পুরুষের লজ্জা ভেঙ্গে
তাদেরকে জিনাতে লিপ্ত হতে
উতসাহিত করে।
(৫) ভীড়ের মাঝে লম্পট যুবকদের
নারীদের গায়ে হাত দেওয়া ও
তাদের ইজ্জত হরণ করা। বোকা
মেয়েগুলো পহেলা বৈশাখের
ফূর্তি করতে গিয়ে লম্পটদের
অত্যাচারের শিকার হয়।
(৬) যিনা-ব্যভিচারঃ যিনা
মানুষের অন্তরকে নষ্ট করে দেয়,
যিনাতে লিপ্ত নারী-পুরুষের
দ্বারা যেকোন খারাপ কাজ করা
সম্ভব।
(৭) অর্ধনগ্ন নায়িকা ও
গায়িকাদেরকে দিয়ে তরুণদেরকে
অশ্লীল কাজের দিকে উৎসাহিত
করা।
(৮) মুখোশ ও মূর্তিঃ যারা প্রানীর
মূর্তি ও ছবি বানায় কেয়ামতের দিন
তাদেরকে সবচাইতে কঠিন শাস্তি
দেওয়া হবে।
(৯) গায়ে ট্যাটু বা উল্কি অংকন করা।
হাদীস অনুযায়ী যারা ট্যাটু করে ও
অন্যকে করে দেয়, তাদের উপর
আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়।
(১০) হিন্দুদের রথযাত্রার অনুকরণে
মংগল শোভা বা মংগল যাত্রা বের
করা।
(১১) ছায়ানট, উদীচি, কমিউনিস্টসহ
বিভিন্ন নাস্তিকদের সংগঠনের
নাটক-সিনেমা, গান ও কবিতার
মাধ্যমে কৌশলে মুসলমানদের মাঝে
শিরকি ও কুফুরী চিন্তা-চেতনা
ঢোকানোর নীলনক্সা বাস্তবায়ন
করা হচ্ছে।
(১২) সরকারী/বেসরকারী টিভি
চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন চমকপ্রদ ও
বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, নাচ-
গানের মাধ্যমে কোটি-কোটি
মুসলমানদেরকে আস্তে আস্তে
বেদ্বীন বানানোর শয়তানের
মাস্টার প্ল্যান।
(১৩) নারীদের খোলামেলা
পোশাক-আশাক ও সংস্কৃতি নাম
দিয়ে পুরুষদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা
করে পুরুষদের চরিত্র ও নারীদের
ইজ্জত নষ্ট করার দিন পহেলা বৈশাখ।
.
ঈমানী চেতনাহীন নারী ও পুরুষ,
যারা জেনে কিংবা না জেনে
মুশরেক জাতির লোকদের অনুকরণ করে,
তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতিগুলোর
অনুকরণ করবে তাদের সম্পর্কে নবী
সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন,
“মান তাশাব্বাহা বি ক্বাওমিন ফা
হুয়া মিনহুম”, অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই
জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের
অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে। আবু দাউদঃ
৩৫১২, হাদীসটি সহীহ শায়খ
আলবানী।
সুতরাং যারা হিন্দুদের অনুকরণ করবে
তারা হিন্দুদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য
হবে, যারা ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের
অনুকরণ করবে তারা ইয়াহুদী-খ্রীস্ট
ান জাতির অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে।
.
দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ে অন্ধ নারী ও
পুরুষদের মাঝে যারা প্রবৃত্তি ও
খেয়াল-খুশির অনুসারী হবে, তাদের
উদ্দেশ্যে ক্বুরানুল কারীমের দুইটি
আয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহ
আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের একটি
সহীহ হাদীস পেশ করছিঃ
.
(১) মহান আল্লাহ্ তাআ’লা বলেন,
“অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে এই নিদর্শনসমূহ
দিয়ে তার মর্যাদা বাড়িয়ে
দিতাম। কিন্তু সে এই দুনিয়ার প্রতি
আসক্ত হলো এবং নিজের প্রবৃত্তির
অনুসারী হয়ে রইল। সুতরাং তার
অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে
তাড়া কর তাহলে সে জিহবা বের
করে হাঁপাবে, আর যদি তাকে
ছেড়ে দাও তবুও সে হাঁপাবে। এ হল
সেসমস্ত লোকদের উদাহরণ; যারা
আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার
করেছে। অতএব, আপনি তাদের কাছে
এই কাহিনীগুলো বর্ণনা করে দিন,
যাতে করে তারা এইগুলো নিয়ে
চিন্তা-ভাবনা করে।” সুরা আল-
আ’রাফঃ আয়াত ১৭৬।
.
(২) মহান আল্লাহ্ তাআ’লা আরো
বলেছেন,
“আর আমি সৃষ্টি করেছি
জাহান্নামের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ।
তাদের অন্তর আছে, কিন্তু তার
দ্বারা তারা চিন্তা-ভাবনা করে
না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তার
দ্বারা তারা দেখেনা, আর তাদের
কান আছে কিন্তু তার দ্বারা তারা
শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত;
বরং তাদের চাইতেও নিকৃষ্টর।
তারাই হল উদাসীন ও
শৈথিল্যপরায়ণ।” সুরা আল-আ’রাফঃ
১৭৯।
.
(৩) সর্বশেষ, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার
পূর্বে একের পর এক নিত্য-নতুন ফেতনা
যখন মুসলমানদেরকে গ্রাস করবে,
তখনকার যুগে মানুষের ঈমানের যেই
হবে সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহ আ’লাইহি ওয়া
সাল্লাম বলেছেন,
“আঁধার রাতের অবিরাম খন্ডের মত
কৃষ্ণ-কালো ফেতনা আবর্তিত হওয়ার
পূর্বেই তোমরা দ্রুত নেক কাজে
মনোনিবেশ কর। (এমন একটা সময় আসবে
যখন) মানুষ সকাল বেলা মুমিন কিন্তু
বিকেল বেলা সে হবে কাফের।
আবার কেউ সন্ধ্যা বেলা মুমিন হবে
তো সকাল বেলা হবে কাফের।
দুনিয়াবি সামান্য স্বার্থের
বিনিময়ে সে দ্বীনকে বিক্রি করে
ফেলবে।” সহীহ মুসলীম।
.
আল্লাহ্ আমাদের ও আমাদের
পরিবারকে, সমস্ত মুসলমান ভাই ও
বোনদেরকে তাগুত, মূর্তিপূজা ও
শয়তানের ধোকা থেকে নিরাপদ
রাখুন, আমিন।

Advertisements