ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস পালন করা সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয, হারাম ও কুফরী

ইসলামের দৃষ্টিতে মুসলমানদের
জন্য ভ্যালেন্টাইন ডে বা
ভালোবাসা দিবস পালন করা
সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয, হারাম ও
কুফরী

মহান আল্লাহ পাক তিনি
ইরশাদ করেন, তোমরা কাফির ও
মুনাফিকদের অনুসরণ করো না।
আজ যারা ভ্যালেন্টাইন ডে
পালন করবে তারা কুফরী করবে।
আর তাদের হাশর-নশর ইহুদী-
নাছারা তথা বিধর্মীদের
সাথেই হবে।

কারণ, ইসলামের
দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য
ভ্যালেন্টাইন ডে বা
ভালোবাসা দিবস পালন করা
সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয, হারাম ও
কুফরী।

image


তথাকথিত
ভালোবাসা দিবস কখনোই
এদেশীয় অর্থাৎ বাঙালি
সংস্কৃতির অংশ ছিলো না। আর
মুসলমানদের সংস্কৃতি তো নয়ই।
বরং তা সম্পূর্ণরূপেই
বিজাতীয়, বিধর্মীয় তথা
পশ্চিমা ইহুদী-নাছারাদের
প্রবর্তিত নিয়মনীতি, তর্জ-
তরীক্বা যা অনুসরণ করা
মুসলমানদের জন্য কাট্টা হারাম
ও শক্ত কবীরা গুনাহ। এছাড়া
তথাকথিত ভালোবাসা
দিবসের নামে মূলত চলে
বেপর্দা-বেহায়াপনার
নির্লজ্জ উৎসব। যাতে ইবলিস
শয়তানের ওয়াসওয়াসা থাকে
ও নফস বা প্রবৃত্তির উদ্দামতা
যুক্ত হয়। যা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ
শরীফ মুতাবিক শক্ত কবীরাহ
গুনাহ এবং পরকালে এসব
কাজের জন্য কঠিন শাস্তি
পেতে হবে তথা
জাহান্নামে যেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ
ইরশাদ হয়েছে,

হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু উনার থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন,

মহান
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন,

যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের
সাথে মিল রাখে সে তাদের
দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর
তাদের সাথেই হবে।”

অর্থাৎ
যারা কথিত ভালোবাসা
দিবস পালন করবে তাদের
হাশর-নশর ইহুদী-নাছারা তথা
বিধর্মীদের সাথেই হবে।
নাঊযুবিল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে হিন্দুস্থানের একটি
ঘটনা বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য। “হিন্দুস্থানে
একজন জবরদস্ত ওলীআল্লাহ
ছিলেন। যিনি ইন্তিকালের
পর আরেকজন বুযুর্গ ব্যক্তি
উনাকে স্বপ্নে দেখে
জিজ্ঞেস করেন, আপনি কেমন
আছেন? সেই ওলীআল্লাহ
তিনি জাওয়াবে বলেন,
আপাতত আমি ভালই আছি,
কিন্তু আমার উপর দিয়ে এক
কঠিন সময় অতিবাহিত হয়েছে
যা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তখন স্বপ্নদ্রষ্টা বুযুর্গ ব্যক্তি
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
আপনি কি আমাকে আপনার
সেই কঠিন অবস্থা সম্পর্কে
বলবেন? ওলীআল্লাহ তিনি
জবাব দিলেন, অবশ্যই বলবো।
কারণ এতে যমীনবাসীর জন্য
শক্ত ইবরত বা নছীহত রয়েছে।
অতঃপর তিনি বলা শুরু করলেন,
আমার ইন্তেকালের পর
ফেরেশ্তা আলাইহিমুস
সালাম উনারা আমাকে
সরাসরি যিনি মহান আল্লাহ্
পাক উনার নিকট পেশ করেন।
আল্লাহ পাক তিনি
ফেরেশ্তা আলাইহিমুস
সালাম উনাদের বললেন, “হে
ফেরেশ্তা আলাইহিমুস
সালাম! আপনারা উনাকে
কেনো এখানে নিয়ে
এসেছেন”? ফেরেশ্তা
আলাইহিমুস সালাম উনারা
বললেন, হে বারে ইলাহী!
আমরা উনাকে খাছ বান্দা
হিসেবে আপনার সাথে
সাক্ষাৎ করার জন্য নিয়ে
এসেছি। আল্লাহ পাক তিনি
বললেন, উনাকে এখান থেকে
নিয়ে যান, উনার হাশর-নশর
হিন্দুদের সাথে হবে। কারণ
তিনি পূজা করেছেন।
ওলীআল্লাহ তিনি বলেন,
একথা শুনে আমি ভয় পেয়ে
গেলাম এবং আমার সমস্ত শরীর
ভয়ে থর থর করে কাঁপতে
লাগলো এবং আমি আরজু
করলাম, আয় আল্লাহ পাক! আমার
হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে
কেনো? আমি তো সবসময়ই
আপনার এবং আপনার হাবীব হুযূর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার ফরমাবরদার
ছিলাম। কখনো ইচ্ছাকৃত কোনো
নাফরমানি করিনি। আর পূজা
করা তো দূরের কথা আমি
কখনো মন্দিরের আশ-পাশ
দিয়েও হাঁটিনি। তখন আল্লাহ
পাক তিনি বললেন, আপনি
সেদিনের কথা স্মরণ করুন,
যেদিন হিন্দুস্থানে হোলি
পূজা হচ্ছিল। আপনি রাস্তা
দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন,
আপনার সামনে-পিছনে,
ডানে-বামে, উপরে-নিচে
আশে-পাশে সমস্ত গাছ-পালা,
তরু-লতা, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ,
বাড়ি-ঘর, সবকিছুতেই রঙ দেয়া
হয়েছিলো। এমতাবস্থায়
আপনার সামনে দিয়ে একটি
গর্দভ (গাধা) হেঁটে যাচ্ছিল
যাকে রঙ দেয়া হয়নি। আপনি
সে সময় পান চিবাচ্ছিলেন,
আপনি সেই গর্দভের গায়ে এক
চিপটি পানের পিক বা রঙীন
রস নিক্ষেপ করে বলেছিলেন-
হে গর্দভ! তোমাকে তো এই
হোলি পূজার দিনে কেউ রঙ
দেয়নি তাই আমি তোমাকে
রঙ দিয়ে দিলাম। এটা কি
আপনার পূজা করা হয়নি? আপনি
কি জানেন না যে, আমার
হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম তিনি
বলেছেন- যে ব্যক্তি যে
সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে
সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার
হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।
সুতরাং, আপনার হাশর-নশর
হিন্দুদের সাথে হবে। যখন
আল্লাহ পাক তিনি এই কথা
বললেন, তখন আমি লা-জাওয়াব
হয়ে গেলাম এবং ভীত-সন্ত্রস্ত
হয়ে বললাম, আয় আল্লাহ পাক!
আমি তো বুঝতে পারিনি,
আমাকে কেউ বুঝিয়েও দেয়নি
আর আমার অন্তরও এ বিষয়ে কখনও
সাড়া দেয়নি। হে আল্লাহ
পাক! আমাকে দয়া করে ক্ষমা
করুন। কিছুক্ষণ পর আল্লাহ পাক
তিনি বললেন, হ্যাঁ। আপনাকে
আপনার অন্যান্য আমলের
কারণে ক্ষমা করা হলো।” এখন
কথা হলো- হোলি পুজার
সাথে মিল রেখে এক চিপটি
পানের পিক বা রস দিলে যদি
হিন্দুদের সাথে হাশর-নশর হয়
তবে যারা ইহুদী, নাছারা বা
কাফিরদের সাথে মিল রেখে
ভেলেন্টাইন ডে পালন করবে
তাদের হাশর-নশর কাদের
সাথে হবে?
মূলকথা হলো- আজ যারা
ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করবে
তারা কুফরী করবে, আর তাদের
হাশর-নশর ইহুদী-নাছারা তথা
বিধর্মীদের সাথেই হবে।
কারণ, ইসলামের দৃষ্টিতে
মুসলমানদের জন্য ভ্যালেন্টাইন
ডে বা ভালোবাসা দিবস
পালন করা সম্পূর্ণরূপে
নাজায়িয, হারাম ও কুফরী।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s