জুয়া বা লটারী খেলা হারামঃ

জুয়া বা লটারী খেলা হারামঃ
=============
জুয়া ধরনের যাবতীয় খেলা ও কাজ
হারাম। কেননা জুয়া বা লটারীতে
ঘটনাক্রমে অমুক ব্যক্তির নাম উঠেছে,
কাজেই শত শত বা হাজার হাজার
ব্যক্তির পকেট থেকে বের হয়ে আসা
টাকা তার একার পকেটে চলে
যাবে।

মদ যেমন একটি হারাম বস্তু তেমনি
অর্থ উপার্জনের জন্য জুয়া খেলাও
হারাম কাজ। এ জন্য দুটি হারাম
বস্তুকে আল্লাহ এক স্থানে উল্লেখ
করেছেন। আবার সূরা মায়েদার ৯০
নং আয়াতে জুয়াকে আল্লাহ মদ ও
মূর্তি পুজার মধ্যবর্তী স্থানে উল্লেখ
করে তা যে কত বড় অন্যায় তার প্রতি
ইঙ্গিত করেছেন।
এ জন্য উলামাগণ উল্লেখ করেছেন যে
যারা জুয়া খেলে তারা
অধিকাংশই মদখোর হয়ে থাকে। আর
এই কারণে তারা মূর্তি পুজাতেও
সহজে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে।
কেননা অর্থের লোভ তাদের কাছে
যেহেতু মূল তাই যে কোন পরামর্শ ও
নির্দেশনা মেনে নিতে তারা
প্রস্তুত। এজন্য কেউ যদি বলে এই মূর্তির
কাছে মান্নত করলে তুমি জুয়ায়
জিতে যাবে, তখন সে তাই করবে।
শয়তান এ সমস্ত লোকদের মগজ নিয়ে
খেল-তামাশা করে। তাদের
পরস্পরের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ
সৃষ্টি করে, তাদেরকে আল্লাহর
যিকির ও নামায থেকে বিরত
রাখে।
আল্লাহ বলেন,
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﺨَﻤْﺮُ ﻭَﺍﻟْﻤَﻴْﺴِﺮُ ﻭَﺍﻟْﺄَﻧْﺼَﺎﺏُ
ﻭَﺍﻟْﺄَﺯْﻟَﺎﻡُ ﺭِﺟْﺲٌ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻞِ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﻓَﺎﺟْﺘَﻨِﺒُﻮﻩُ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ
ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ ‏( 90 ‏) ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ ﺃَﻥْ ﻳُﻮﻗِﻊَ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢُ
ﺍﻟْﻌَﺪَﺍﻭَﺓَ ﻭَﺍﻟْﺒَﻐْﻀَﺎﺀَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺨَﻤْﺮِ ﻭَﺍﻟْﻤَﻴْﺴِﺮِ ﻭَﻳَﺼُﺪَّﻛُﻢْ ﻋَﻦْ ﺫِﻛْﺮِ
ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻋَﻦِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻓَﻬَﻞْ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻣُﻨْﺘَﻬُﻮﻥَ
“হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি
পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ
এ সমস্তই হচ্ছে নাপাক শয়তানী
কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে
থাকো, আশা করা যায় তোমরা
সফলতা লাভ করবে।” (মায়েদা: ৯০)
“শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে
তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা-
বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর
স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদের
বিরত রাখতে। তাহলে তোমরা কি
এসব থেকে বিরত
থাকবে?” (মায়েদা: ৯১)
অতএব কুরআন থেকে জুয়া হারাম
হওয়ার কারণ সমূহ হচ্ছে:
(১) জুয়াকে সুস্পষ্ট হারাম কাজ মদ ও
মূর্তি পুজার সাথে উল্লেখ করা
হয়েছে। মদ মানুষের বিবেক নষ্ট করে,
জুয়া মানুষের অর্থ-সম্পদ ধ্বংস করে আর
মূর্তি মানুষের ঈমান নষ্ট করে।
(২) জুয়া একটি নাপাক কাজ।
(৩) জুয়া শয়তানের একটি অন্যতম
কর্মকাণ্ড।
(৪) জুয়াকে বর্জন করা সরাসরি
আল্লাহর নির্দেশ। আর আল্লাহর
নির্দেশ লঙ্ঘন করা হারাম।
(৫) জুয়া হচ্ছে সফলতার পথে বিরাট
বাধা। জুয়া মানেই বিভ্রান্তি,
ব্যর্থতা ও ধ্বংস।
(৬) জুয়া মানুষের পরস্পরের মাঝে
শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি
করে।
(৭) জুয়া মানুষকে আল্লাহর যিকির
থেকে বিরত রাখে।
(৮) জুয়া মানুষকে সালাত থেকে
বিমুখ করে দেয়।
(৯) জুয়ার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে
মানুষের সম্পদ আত্মসাত করা হয়।
(১০) জুয়া মানুষকে বৈধ কাজ-কর্ম ও
ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বিমুখ করে
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার অলিক
স্বপ্নে বিভোর রাখে।
(১১) জুয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক
কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের কার্যকরী
ভূমিকা পালন করে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s