ছহীহ বুখারীতে কি কোন যঈফ হাদীছ রয়েছে? ?

ছহীহ বুখারীতে কি কোন যঈফ হাদীছ
রয়েছে? শায়খ আলবানী (রহঃ) ছহীহ
বুখারীর ১৫টি হাদীছকে ত্রুটিযুক্ত বা
দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ
ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে
বাধিত করবেন।?
.
কেবল শায়খ আলবানী নন প্রথম যুগের
বেশ কিছু
মুহাদ্দিছ এ বিষয়ে ছহীহ বুখারীর
কতিপয় হাদীছ সম্পর্কে
সমালোচনা করেছেন।
তাঁদের মধ্যে
সর্বাধিক ইমাম
দারাকুৎনী (৩০৬-৩৮৫ হিঃ) ছহীহ
বুখারীর ৭৮টি এবং বুখারী ও
মুসলিমের মিলিতভাবে ৩২টি
হাদীছের উপর সমালোচনা
করেছেন। এসব সমালোচনার উত্তরে
বিভিন্ন গ্রন্থ লিপিবদ্ধ
হয়েছে। ছহীহ বুখারীর ভাষ্যকারগণের
প্রত্যেকেই
সংক্ষেপে বা বিস্তারিতভাবে এসব
সমালোচনার জবাব
দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ ভাষ্যকার
হাফেয ইবনু হাজার
আসক্বালানী (৭৭৩-৮৫২হিঃ) ফাৎহুল
বারীর ভূমিকা ‘হাদীয়ুস
সারী’তে এইসব সমালোচনার একটি
একটি করে
বিস্তারিতভাবে জবাব দিয়েছেন
(হাদীয়ুস সারী মুক্বাদ্দামা
ফাৎহুল বারী ৮ম অনুচ্ছেদ ৩৬৪-৪০২) ।
আলোচনার শেষে উপসংহারে তিনি
বলেন, সমালোচিত
প্রত্যেকটি হাদীছই দোষযুক্ত নয়। বরং
অধিকাংশের জওয়াব
পরিষ্কার ও দোষমুক্ত। কোন কোনটির
জওয়াব
গ্রহণযোগ্য এবং খুবই সামান্য কিছু
রয়েছে যা না বুঝে তাঁর
উপর চাপানো হয়েছে। আমি
প্রত্যেকটি হাদীছের
শেষে এগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
পেশ করেছি’ (মুক্বাদ্দামা ৪০২
পৃঃ) ।
.
তিরমিযীর ভাষ্যকার শায়খ আহমাদ
মুহাম্মাদ শাকের বলেন,
‘ছহীহ বুখারীর যে সব হাদীছ
সমালোচিত হয়েছে তার
অর্থ হ’ল সেগুলো ইমাম বুখারীর
শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধতার
সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেনি। তবে
হাদীছটি স্বীয়
অবস্থানে ছহীহ। তিনি বলেন,
মুহাক্কিক ওলামায়ে হাদীছ-এর
নিকটে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই
যে, ছহীহ
বুখারী ও মুসলিমের প্রতিটি হাদীছই
ছহীহ। এ দু’টি গ্রন্থের
কোন একটি হাদীছ দুর্বলতা বা
ত্রুটিযুক্ত নয়। ইমাম
দারাকুৎনীসহ মুহাদ্দিছগণের কেউ কেউ
যে সমালোচনা
করেছেন তার অর্থ হ’ল তাঁদের নিকট
সমালোচিত
হাদীছসমূহ ইমাম বুখারী ও মুসলিমের
শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধতার
সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারেনি।
তবে সাধারণভাবে
হাদীছগুলির বিশুদ্ধতা নিয়ে কেউই
মতভেদ করেননি (আল
বা‘এছুল হাছীছ, তাহকীক : আহমাদ
মুহাম্মাদ শাকের, পৃঃ ৩৩-৩৪) ।
শায়খ আলবানীও উছূলে হাদীছের
আলোকে ছহীহ
বুখারীর ১৫টি হাদীছের সমালোচনা
করেছেন তাঁর ‘সিলসিলা
যঈফাহ’ গ্রন্থে। উক্ত সমালোচনা
হাদীছবিরোধী বা
হাদীছে সন্দেহবাদীদের মত নয়। বরং
একজন
সূক্ষ্মদর্শী মুহাদ্দিছ বিদ্বান হিসাবে।
যেমন ইতিপূর্বে
অনেক মুহাদ্দিছ করেছেন। যদি এতে
তিনি ভুল করে থাকেন
তাহ’লেও নেকী পাবেন। আর ঠিক করে
থাকলে দ্বিগুণ
নেকী পাবেন। তবে তিনি যেসব
হাদীছকে যঈফ
বলেছেন, সেব্যাপারে ইমাম বুখারী
(রহঃ)-এর সিদ্ধান্তই
চূড়ান্ত। কেননা দুর্বল রাবীদের বর্ণনা
গ্রহণ করার ব্যাপারে
তাঁর কতগুলি স্পষ্ট নীতি ছিল। যেমন :
(১) দুর্বল রাবীদের
সকল বর্ণনাই দুর্বল নয়। (২) উক্ত বিষয়ে
অন্য কোন
হাদীছ না পাওয়া এবং হাদীছটি
বিধানগত ও আক্বীদা বিষয়ক না
হওয়া। বরং হৃদয় গলানো ও ফযীলত
বিষয়ে হওয়া। (৩) সনদে
বা মতনের কোন ত্রুটি দূর করার জন্য
বা কোন বক্তব্যের
অধিক ব্যাখ্যা দানের জন্য কিংবা
শ্রুত বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য
সহযোগী হিসাবে ‏( ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺘﺎﺑﻌﺎﺕ ) কোন
হাদীছ আনা’ (ড.
মুহাম্মাদ হামদী আবু আবদাহ, জর্ডান
বিশ্ববিদ্যালয়ে শরী‘আ
অনুষদ কর্তৃক আয়োজিত সম্মেলনে
পেশকৃত
গবেষণাপত্র, ৩৪ পৃঃ) ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s