স্বামীর হক

#স্বামীর__হক_কি?

image

স্বামীর অবাধ্য হওয়া
আল্লাহ বলেন-

ﻭَﺍﻟﻠَّﺎﺗِﻲ ﺗَﺨَﺎﻓُﻮﻥَ ﻧُﺸُﻮﺯَﻫُﻦَّ ﻓَﻌِﻈُﻮﻫُﻦَّ ﻭَﺍﻫْﺠُﺮُﻭﻫُﻦَّ ﻓِﻲ
ﺍﻟْﻤَﻀَﺎﺟِﻊِ ﻭَﺍﺿْﺮِﺑُﻮﻫُﻦَّ ﻓَﺈِﻥْ ﺃَﻃَﻌْﻨَﻜُﻢْ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺒْﻐُﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻦَّ
ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠِﻴًّﺎ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ ﴿ 34 ﴾ ( ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ৩৪)

‘‘আর তাদের স্ত্রীদের মধ্যে
অবাধ্যতার আশংকা কর তাদের
সদুপদেশ দাও তাদের শয্যা ত্যাগ করো
এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা
অনুগত হয়ে যায় তবে তাদের জন্যে
কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয়
আল্লাহ সবার উপরে
শ্রেষ্ঠ।’’

(নিসা:৩৪)

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশাদ করেন-

ﺍﺫﺍ ﺩﻋﺎ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﻣﺮﺃﺗﻪ ﺍﻟﻰ ﻓﺮﺍﺷﻪ ﻓﺄﺑﺖ ﻓﺒﺎﺗﺖ ﻏﻀﺒﺎﻥ
ﻋﻠﻴﻬﺎ ﻟﻌﻨﺘﻬﺎ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﺣﺘﻰ ﺗﺼﺒﺢ .
(ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ :২৯৯৮)

‘‘যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে
বিছানায় আহবান করে আর স্ত্রী
অস্বীকার করার ফলে স্বামী
রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন
করে তখন ঐ স্ত্রীর উপর ফেরেশতারা
অভিশাপ করতে
থাকে।’’

(বুখারী:২৯৯৮)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন-

ﻟﻮ ﻛﻨﺖ ﺁﻣﺮ ﺃﺣﺪﺍ ﺃﻥ ﻳﺴﺠﺪ ﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻵﻣﺮﺕ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺃﻥ
ﺗﺴﺠﺪ ﻟﺰﻭﺟﻬﺎ ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺲ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻴﺪﻩ ﻻ ﺗﺆﺩﻱ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ
ﺣﻖ ﺭﺑﻬﺎ ﺣﺘﻰ ﺗﺆﺩﻱ ﺣﻖ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻛﻠﻪ ﻟﻮ ﺳﺄﻟﻬﺎ ﻧﻔﺴﻬﺎ
ﻭﻫﻲ ﻋﻠﻰ ﻗﺘﺐ ﻟﻢ ﺗﻤﻨﻌﻪ . ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ :১০৭৯)

‘‘যদি তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্য
কাউকে সেজদা করার আদেশ দিতাম
তাহলে নারীদের প্রতি আদেশ
দিতাম আরা যেন তাদের
স্বামীদের সেজদা করে। ঐ সত্তার
শপথ করে বলছি যার হাতে আমার
জীবন, মহিলারা ঐ পর্যন্ত আল্লাহর হক
আদায় করতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত
সে স্বামীর হক আদায় না করে,
এমনকি স্বামী যদি যাত্রা পথে
ঘোড়ার পৃষ্ঠেও তাকেও আহবান করে
তখনও তাকে বাধা না দেয়।’’
(আহমাদ:১০৭৯)

সুতরাং তাদেরকে আল্লাহর ছাড়া
অন্য কাউকে সেজাদা করার আদেশ
দিতাম তাহলে নারীদের প্রতি
আদেশ দিতাম তারা যেন তাদের
স্বামীদের সেজদা করে। ঐ সত্তার
শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার
জীবন, মহিলারা ঐ পর্যন্ত আল্লাহর হক
আদায় করতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত
সে স্বামীর হক আদায় না করে,
এমনকি স্বামী যদি যাত্রা পথে
ঘোড়ার পিঠেও তাকে আহবান করে
তখনও তাকে বাধা না দেয়।’’

(আহমাদ,
সহীহ আল জামে)

সুতরাং নারীদের কর্তব্য, তারা
সর্বাবস্থায় স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনে
সচেষ্ট হবে এবং তার অসন্তুষিট হতে
বেচে থাকবে, কখনো স্বামীকে
জৈবিক চাহিদা পূরণে বাধা
দেবে না। তবে যদি শরয়ী কোন
আপত্তি থাকে তবে যেমন – হায়েয
নেফাস অথবা ফরয সওম ইত্যাদি
অবস্থায় শুধু সহবাস হতে নিষেধ করতে
পারে। মহিলাদের জন্য কর্তব্য হল
সর্বদা স্বামীর নিকট লজ্জাবতী
হওয়া, তার আদেশের আনুগত্য করা,
তার সকল প্রকার অপছন্দনীয় কাজ হতে
বিরত থাকা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﺍﻃﻠﻌﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﺃﻛﺜﺮﻫﺎ ﺃﻫﻠﻬﺎ ﺍﻟﻔﻘﺮﺍﺀ ﻭﺍﻃﻠﻌﺖ
ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻓﺮﺍﻳﺖ ﺃﻛﺜﺮ ﺃﻫﻠﻬﺎ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ . ( ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ :৩০০২)

‘‘আমি জান্নাতে উকি মেরে
দেখি, জান্নাতে অধিকাংশ
অধিবাসী দরিদ্র এবং জাহান্নামে
উকি মেরে দেখি, তার অধিকাংশ
অধিবাসী মহিলা।’’

(বুখারী:৩০০২)

অত্র হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম
হাফেয শামসুদ্দিন আয-যাহাবী
বলেন, মহিলাদের আল্লাহ ও তার
রাসূলের প্রতি আনুগত্যের অভাব।
স্বামীর অবাধ্যতা এবং
পর্দাহীনতাই এর মূল কারণ। মহিলারা
যখন ঘর থেকে বের হয় তখন সর্বোচ্চ সুন্দর
পোশাক পরে বিশেষ সাজ-সজ্জা
অবলম্ভন করে, যা মানুষকে ফিৎনায়
পড়তে বাধ্য করে। সে নিজে
নিরাপদে থাকলেও মানুষ তার
থেকে নিরাপদ থাকে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻋﻮﺭﺓ، ﻓﺈﺫﺍ ﺧﺮﺟﺖ ﺍﺳﺘﺸﺮﻓﻬﺎ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ,
(ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ :১০৯৩)
‘‘মহিলারা আবরণীয় । কিন্তু যখন
তারা রাস্তায় বের হয় তখন শয়তান
তাকে মাথা উঁচু করে
দেখে।’’

(তিরমিযি:১০৯৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻋﻮﺭﺓ، ﻭﺇﻧﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺧﺮﺟﺖ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﺍﺳﺒﺸﺮﻓﻬﺎ
ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ، ﻭﺇﻧﻬﺎ ﻻ ﺗﻜﻮﻥ ﺃﻗﺮﺏ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻨﻬﺎ ﻓﻲ ﻗﻌﺮ
ﺑﻴﺘﻬﺎ . ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ :১০৯৩)

‘‘মহিলারা হল আবরণীয়, তারা যখন ঘর
হতে বের হয় তখন শয়তান তাদেরকে
মাথা উচু করে দেখে। তারা যত
বেশী ঘরের কোণে অবস্থান করবে
ততই আল্লার নৈকট্য লাভ
করবে।’’ (তিরমিজী, সহীহ আল জামে)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﻣﺎ ﺗﺮﻛﺖ ﺑﻌﺪﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﺘﻨﺔ ﺃﺿﺮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺮﺟﺎﻝ ﻣﻦ
ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ. ( ﻣﺴﻠﻢ :৭৪০৬)
‘‘আমার পরে পুরুষদের উপর মহিলাদের
মত ক্ষতিকর আর কোন ফিৎনা আমি
রেখে যাইনি।’’
(মুসলিম:৭৪০৬)
মহিলাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ
তার ঘর অবস্থান করা। আল্লাহর ইবাদত,
স্বামীর আনুগত্য, তার অধিকার
সর্ম্পকে সচেতন থাকা, স্বামীর উপর
কোন প্রকার বাড়াবাড়ি না করা
এবং আপন চরিত্রে কোন প্রকার
কলংক না জড়ানো।
উল্লেখিত প্রতিটি হাদীসে স্ত্রীর
কাছে স্বামীর অধিকার যে কত বড়
তা বুঝানো হয়েছে। বাস্তবিক
পক্ষে এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করার
কারণ, বর্তমানে এটি মহিলাদের
জন্যে মহা প্রলয়ংকারী বিপদে
পরিণত হয়েছে।
হে মুসলিম ভাইয়েরা ! আপনাদের
প্রতি আমার বিনীত উপদেশ এই যে,
আপনারা এমন নারীদের বিবাহ
করবেন যারা মুমিনা, পর্দানশীল,
স্বামীর অনুগত, আপনার ধন স্পদ
রক্ষাকারিণী এবং সে
পর্দাহীনভাবে সাজ-সজ্জা গ্রহণ
করে রাস্তায় বের হবে না। আর
আপনার আনুগত্য করবে।
যদি আপনার স্ত্রী মুমিনা ও অনুগতা
মহিলা হয় তাহলে আপনি
হিতাকাঙ্খী হবেন, তার সাথে
কোন রকমের হঠকারিতাপূর্ণ আচরণ
করবেন না।
রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
ﺍﺳﺘﻮﺻﻮﺍ ﺑﺎﻟﻨﺴﺎﺀ ﺧﻴﺮﺍ، ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺧﻠﻘﺖ ﻣﻦ ﺿﻠﻊ،
ﻭﺍﻥ ﺃﻋﻮﺝ ﺷﻴﺊ ﻓﻲ ﺍﻟﻀﻠﻊ ﺃﻋﻼﻩ، ﻓﺈﻥ ﺫﻫﺒﺖ ﺗﻘﻴﻤﻪ
ﻛﺴﺮﺗﻪ، ﻭﺍﻥ ﺗﺮﻛﺘﻪ ﻟﻢ ﻳﺰﻝ ﺃﻋﻮﺝ، ﻓﺎﺳﺘﻮﺻﻮﺍ ﺑﺎﻟﻨﺴﺎﺀ
ﺧﻴﺮﺍ . (ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ :৩০৮৪)
‘‘তোমরা মেয়েদের সাথে ভাল
ব্যবহার করবে। তাদেরকে বাম
পাজরের হাড় হতে সৃষ্টি করা
হয়েছে। আর পাজরের হাড় সবচেয়ে
বাকা হয়, যদি তুমি সোজা করতে
চেষ্টা কর ভেঙ্গে যাবে, আর যদি
ছেড়ে তাও তাহলে সর্বদা বাকা
তাকবে। সুতরাং তাদের সাথে সৎ
ব্যবহার করতে থাক।’’ (বুখারী:৩০৮৪)
তাদের সাথে সৎ ব্যবহার হল, আল্লাহর
আদেরশের আনুগত্য করার নির্দেশ
দেয়া এবং নিষেধ কাজ হতে বিরত
থাকতে আদেশ করা। এগুলি
তাদেরকে জান্নাতের পথের নিয়ে
যায়।

ইসলামের শাশ্বত বাণী সবার
কাছে
পৌঁছে দেওয়া সকল মুসলিমের
দায়িত্ব। সুতরাং শেয়ার ও ট্যাগ
করতে ভুলবেন না। ☛

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s